ব্যাকরণ কাকে বলে? উদাহরণ সহ ব্যাকরণের প্রয়জনীয়তা।


ব্যাকরণ কী? ব্যাকরণ এর অর্থ:- ব্যাকরণ এর উৎপত্তি গত অর্থ হল বিশেষ রূপে বা সম্যক রূপে বিশ্লেষণ। ব্যাকরণ শব্দটি ইংরেজি Grammar শব্দের প্রতিশব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ব্যাকরণ শব্দটি গ্রীক ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো শব্দ শাস্ত্র।

উদাহরণ হিসাবে আমরা বলতে পারি যে লুডু, দাবা, ক্রিকেট, ফুটবল এই এইসকল খেলা আমরা অনেকে খেলেছি বা দেখেছি। কিন্তু এই খেলাগুলোর আলাদা আলাদা একেকটা নিয়ম রয়েছে এবং এই নিয়মগুলো যদি আমরা না জানি তাহলে এই খেলা গুলো দেখতে আমাদের ভালো লাগবে না।

ব্যাকরণ এর সংজ্ঞা

ব্যাকরণ হলো এমন একটি বিদ্যা যার সাহায্যে কোনো ভাষার গঠন অর্থ – বৈশিষ্ট্য এবং তার রূপ রীতিকে বিশ্লেষণ করে তার স্বরূপ বোঝা যায় এবং সেই ভাষাকে লেখা, পড়া ও কথায় শুদ্ধভাবে ব্যাবহার করা যায় তাকে ব্যাকরণ বলে। যেমন :- বই, কলম, ভাত ইত্যাদি।


বাংলা ব্যাকরণ হল: যে বই পড়লে ভাষা শুদ্ধ করে, লিখিতে, বলতে ও পড়তে পারা যায় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে।

ব্যাকরণ কত প্রকার এবং তাদের সংজ্ঞা:-


ড° সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় ব্যাকরণকে চার ভাগে ভাগ করেছেন।

যথা: ১) বর্ণনামূলক ব্যাকরণ, ২) ঐতিহাসিক ব্যাকরণ, ৩) তুলনা মূলক ব্যাকরণ, ৪) দার্শনিক বিচার মূলক ব্যাকরণ।


১) বর্ণনামূলক ব্যাকরণ= যে ব্যাকরণ কোনো নির্দিষ্ট কালের সীমার মধ্যে কোনো ভাষার বিচার বিশ্লেষণ ও আলোচনা করে, তাকে বর্ণনা মূলক ব্যাকরণ বলে। বর্ণনা মূলক ব্যাকরণের ভাষা হচ্ছে – ভাষার বিচার করা, বিস্তারিত ভাবে বিশ্লেষণ ও যৌক্তিক আলোচনা করা।


২) ঐতিহাসিক ব্যাকরণ= যে ব্যাকরণ কোনো নির্দিষ্ট কালের বা বিশেষ কালের ভাষার বর্ণনা না করে না করে ভাষার কালগত ধারাবাহিক রূপান্তরকে বর্ণনা বা আলোচনা করে অর্থাৎ প্রাচীন কাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ভাষার রূপান্তরকে আলোচনা বা বর্ণনা করে, তাকে ঐতিহাসিক ব্যাকরণ বলে। ঐতিহাসিক ব্যাকরণের ভাষার বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ কালে ভাষার রুপটির উৎপত্তি ও বিকাশের ঐতিহাসিক ধারা নির্ণয় করা হয়।


৩) তুলনা মূলক ব্যাকরণ= যে ব্যাকরণ কোনো বাক্যের বিভিন্ন ভাষার সংগঠন ও প্রয়োগরীতির তুলনা করে, তাকে তুলনা মূলক ব্যাকরণ বলে। তুলনা মূলক বাংলা ব্যাকরণে ঐতিহাসিক ব্যাকরণই আরও পেছনে গিয়ে সমগোষ্টির ও সমান অবস্থার ভাষার সঙ্গে তুলনা করে বাংলা ভাষার বিশ্লেষণ থাকে।


৪) দার্শনিক বিচার মূলক ব্যাকরণ= এই শ্রেণীর ব্যাকরণ ভাষার অন্তর্নিহিত চিন্তাবলি ধারণ করে ভাষার রূপের উৎপত্তি ও বিবর্তন বিচার বিশ্লেষণ করে।

ব্যাকরণ পড়ার প্রয়োজনীয়তা:-

১/ পৃথিবীতে অনেক ভাষা রয়েছে, এই ভাষাগুলো নিয়ম শৃঙ্খলা এবং নিয়ম বিধি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ভাষার এই নিয়ম শৃঙ্খলা এবং নিয়ম বিধি জানার জন্যেই আমাদের ব্যাকরণ পাঠের প্রয়োজন। ব্যাকরণ পাঠের মাধ্যমেই আমরা একটি ভাষাকে বিশ্লেষণ করতে পারবো এবং সেই ভাষার স্বরূপ বা বৈশিষ্ট্য জানতে পারব।


২/ ব্যাকরণ পাঠের মাধ্যমেই আমরা ভাষায় বিভিন্ন উপাদানের গঠন প্রকৃতি এবং সে সবের সুষ্ঠ ব্যাবহার সম্পর্কে জানতে পারবো। ভাষার মূল উপাদান চারটি এবং এই চারটি উপাদান হলো ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ও অর্থ।


৩/ ব্যাকরণ পাঠের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারবো যে কিভাবে একটি ভাষা শুদ্ধ ভাবে লিখতে পারবো এবং কিভাবে একটি ভাষা শুদ্ধ ভাবে বলতে পারবো। অর্থাৎ কোনো ভাষার লেখায় এবং কথায় তখনই শুদ্ধতা আসবে যখন আমরা ব্যাকরণ পাঠ করবো।


৪/ ব্যাকরণ পাঠের মাধ্যমে কোনো ভাষার সৌন্দর্য অনুধাবনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।


৫/ ব্যাকরণ যদি আমাদের ভালো ভাবে জানা থাকে তাহলে আমরা কোনো সাহিত্যের রস উপভোগ করতে পারবো।


৬/ ব্যাকরণ পাঠের মাধ্যমে ছন্দ – অলঙ্কার বিষয়ে জ্ঞান লাভ করা যায়।


৭/ ভাষা পরিবর্তনশীল এবং এই ভাষা পরিবর্তনের ধারা যদি আমরা জানতে চাই বা কেনো এই ভাষা পরিবর্তন হচ্ছে বা হচ্ছে না, বা তার বিশ্লেষণ, বর্ণনা ইত্যাদি আমরা জানতে চাই তাহলে আমাদের ব্যাকরণ পাঠের প্রয়োজন।


৮/ ভাষার মাধ্যমে মনের ভাব সঠিক ভাবে প্রকাশ করতে ব্যাকরণ পাঠের প্রয়োজন হয়।


৯/ ব্যাকরণ পাঠের মাধ্যমে ধ্বনি ও বর্ণের উচ্চারণের প্রার্থক্য এবং বানান বিধির বিষয়ে জানতে পারা যায়। ধ্বনি ও বর্ণের সঠিক উচ্চারণ বিধি না জানলে এবং সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে না পারলে মনের ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে তা কাঙ্খিত অর্থ প্রকাশ না করে ভিন্ন অর্থও প্রকাশ করতে পারে।


১০/ শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে শব্দের সঠিক অর্থ নির্ণয়ের জন্য এবং নতুন শব্দ গঠনের জন্যে রূপতত্ব সম্বন্ধে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। শব্দ গঠন এবং সংক্ষিপ্ত করার উপায় হচ্ছে সন্ধি, সমাস, প্রত্যয়, উপসর্গ প্রভৃতি। ব্যাকরণ না জানলে আমাদের এই সব শব্দের ব্যাবহার অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।


১১/ বাক্য গঠন এবং এর সঠিক অর্থ প্রকাশের জন্যে এর সাধারণ অর্থ, ভাবার্থ ও ব্যঞ্জনাময় অর্থ জানতে হবে এবং এই সব জানতে হলে আমাদের ব্যাকরণ পাঠ করা প্রয়োজন।

ব্যাকরণ এর বৈশিষ্ট

১/ ব্যাকরণ কোনো ভাষার প্রচলন ও বিকাশ ঘটায়।
২/ ব্যাকরণ ভাষার ধ্বনি, শব্দ ও বাক্যগঠনে প্রচলিত রীতি নীতির মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন পরিবর্তন এনেছে। এই রীতির নানা বিষয় আলোচনার মাধ্যমে ব্যাকরণ ভাষার পরিচয় উপস্থাপন করে।
৩/ ব্যাকরণের বিভিন্ন রীতি নীতির মাধ্যমেই বর্তমানে সকল ভাষার বিশেষ গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে।
৪/ ব্যাকরণে ভাষার বর্তমান রূপ পাওয়া যায়।
৫/ ব্যাকরণ ভাষার অভ্যন্তরীণ শৃঙ্কলা বজায় রাখে।
৬/ কোনো ভাষার নানান রীতির বিষয় ব্যাকরণে আলোচনা করা হয়।

এই আর্টিকেল পড়ে আমরা জানলাম যে, ব্যাকরণ কাকে বলে? ও ইহার প্রয়োজনীয়তা উদাহরণ স্বরূপ বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়াও এই সাইটে আরও শিক্ষণীয় বিষয় জানতে হলে অন্যান্য পোস্টগুলি দেখুন। (এখানে ক্লিক করুন)


WP Twitter Auto Publish Powered By : XYZScripts.com