পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শহর কোনটি?


পৃথিবীতে তো অনেক শহর রয়েছে, যেখানে আপনারা সব রকমের মনো মুগ্ধকর সুন্দরতা দেখতে পাবেন। কিন্তু আপনি কি এরকম কোনো শহরের সম্বন্ধে জানেন ? যেটি না শুধু আধুনিক সুবিধার জন্যই বিখ্যাত বরং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেও ভরপুর। এরকমই একটি শহর রয়েছে যাকে ‘city of love‘ বলা হয়ে থাকে, এই শহরটিকে যদি পৃথিবীর স্বর্গ বলা হয়, তাতেও কোনো সন্ধেহ থাকবে না। আর এই শহরটির নাম হলো ‘ভ্যানিস।’ ভ্যানিস শহরটি ইতালির দেশের পরিচয় এবং বিশ্বের সবচাইতে সুন্দর শহর। কিন্তু বিশ্বের সবচাইতে সুন্দর শহরের রয়েছে কিছু অদ্ভুত আইন, অদ্ভুত কাহিনী। তাহলে চলুন আজ আমরা বিশ্বের সবচাইতে সুন্দর শহর ভ্যানিস এর সম্বন্ধে কিছু তথ্য জেনে নেই।

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শহর কোনটি

ভ্যানিস শহরের সংক্ষিপ্ত পরিচয়

‘ভ্যানিস’ শহরের সরকারি নাম হলো ‘Republic of vanice‘। ভ্যানিস শহরের দুই পারে দুটি ছুটো ছুটো দ্বীপ রয়েছে এবং এই দ্বীপ দুটিকে একসাথে মেলানোর জন্য প্রায় 417 টি পুল বানানো হয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শহরটিতে প্রায় 2লক্ষ, 70হাজার মানুষ বসবাস করে। এই শহরটির সুন্দরতার বিশেষ কারণ হলো, এটি পুরোপুরি জলের উপর অবস্থিত শহর। ভ্যানিস শহরটিকে দেখার জন্যে প্রতি বছর প্রায় 5কোটি লোক আসে। এই শহরটি পর্যটক স্থানএর মধ্যে বিশ্বের পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ভ্যানিস শহরটিকে দিনের বেলা দেখতে যতটা সুন্দর লাগে, তার চাইতে দ্বিগুণ সুন্দর লাগে সেখানের সন্ধ্যা। রাতে সমুদ্র আরও অনেক সুন্দর দেখায়। সমুদ্রের দুই পারে অবস্থিত প্রাচীন ভবনগুলো দেখতেও অনেক সুন্দর লাগে, যেগুলো ১৩-১৪ শতাব্দীতে ভ্যানিস এর ‘রেস ‘ জাতিরা তৈরি করেছিল
সেখানের হলুদ সূর্যের আলোয় ঝিকিমিকি করা সমুদ্রের পার এবং সমুদ্রে ভাসমান কালো নৌকা, আপনাকে এত সুন্দর মুহূর্তের অনুভব করাবে, যেটি আপনি হয়তো কল্পনাতে দেখতেন।

ভ্যানিস শহরের কিছু অদ্ভুত কানুন

১। আপনি কি জানেন যে ভ্যানিস বিশ্বের একমাত্র শহর যেখানে ছেলেদের স্কার্ট পরা বারণ। এখন আপনি হয়তো এটাই ভাবছেন যে কোনো জায়গার পুরুষই তো স্কার্ট পরে না। কিন্তু কথাটা হলো যে কোনো জাগাতেই পুরুষদের স্কার্ট পরা বারণ নয়, হয়তো কোনো পুরুষ স্কার্ট পরে না কিন্তু চাইলে পরতে পারে। তবে লোকে হাসবে, লোকে কি বলবে, এই ভেবে হয়তো, এখানকার পুরুষরা স্কার্ট পরে না, তবে এই স্কার্ট পরাকে আইনের অপরাধ বলা হয় না। কিন্তু ভ্যানিস এ যদি কোনো পুরুষ স্কার্ট পরে তবে তাকে আইন গত অপরাধ হিসাবে মানা হয়।

২।এই শহরের আরও একটি অদ্ভুত কানুন রয়েছে, যেটি জানলে আপনিও স্তম্ভিত রয়ে যাবেন। সেখানকার প্রতিটি নৌকার রং কালো হওয়া চাই, যদি কেও কালো রঙের নৌকার বদলে অন্য কোনো রঙের নৌকা নেয় এবং ভ্যানিস শহরের কোনো নদীতে যদি এই নৌকা চালায়, তাহলে এটাকে আইনত অপরাধ মানা হবে এবং তাকে 3বছরের কারাবাস ও দেওয়া হয়। এবং এর সঙ্গে যাবৎজীবন এর জন্য নৌকা চালানো নিষিদ্ধ করে দেওয়া হবে।

৩। ভ্যানিস শহরে যদি কেউ কোনো জিব – জন্তু পালন করতে চায়, তাহলে নিজেকে প্রথমে একটা আইনত বৈধ কাগজ করতে হবে, যে সেই জন্তুটিকে সে প্রতিদিন কম হলেও তিনবার বাইরে ঘুরতে নিয়ে যাবে। যদি সে এই নিয়ম মেনে না চলে, তাহলে তাকে 6মাসের জেল হবে।

৩। আমাদের দেশ যেভাবে ক্রিকেট প্রেমী, এখানে যদি কাউকে ‘নো বল ‘ এর মানে জিজ্ঞেস করো, তাহলে সে ঝট করেই উত্তর দিয়ে দেবে। কিন্তু ভ্যানিস শহরে যদি আপনি যান তাহলে ভুলেও সেখানে ‘নো বল ‘ বলবেন না। কেননা সেখানে ‘ নো বল ‘ এর মানে হলো, “কমজোর ব্যাক্তি”, এই ব্যাক্তি এটা পারবে না, ব্যাক্তিটি কোনো কাজের জন্যে উপযুক্ত নয়”। যদি আপনি ভুলেও ‘নো বল ‘ বলেছেন তাহলে, সেখানের আইন অনুযায়ী আপনি এক অপরাধী এবং আপনার জেল অথবা ১হাজার ডলারের শাস্তি হতে পারে।

ভ্যানিস শহরের কিছু অজানা অদ্ভুত কাহিনী

আপনি কি জানেন, এই আধুনিক যুগেও ভ্যানিস এর লোকেরা এখনো অনেক অন্ধবিশ্বাসী হয়। সেখানের লোকেরা মনে করে যে, যদি কেউ একটি পায়ের উপর ঝাড়ু দিয়ে দেয়, তাহলে তার আর বিয়ে হবে না। শুধু এটাই নয়, সেখানের লোক তাদের মাথার টুপি, কখনোই বিছানায় রাখে না, তারা মনে করে যে এমন করলে, মৃত্যুকে ডেকে আনা হয়।

প্রতিটি দেশেরই একটি একটি কাহিনী থাকে, তেমনি ভ্যানিশ শহরেরও একটি কাহিনী রয়েছে। আপনি জানলে অবাক হবেন যে এই শহরে আপনি খুবই অল্প পরিমাণে গাড়ী চলাচল রয়েছে। কিভাবেই বা গাড়ি চলাচল করবে, গাড়ি চলাচলএর জন্যে তো রাস্তার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই শহরে গাড়ি চালানোর জন্য কোনো রাস্তাই নেই। এখানে যাতায়াতের জন্য নৌকা ব্যাবহার করা হয়। আর এখানের রাস্তার দায়িত্বে রয়েছে সেখানের সমুদ্রের তরঙ্গ, যা শহরটির চারিদিকে রয়েছে।

ভ্যানিস শহরে 17 নম্বরের ব্যাবহার করা হয় না

আজ কাল তো সবাই প্রায় শিক্ষিত এবং সবাই পড়া লেখা করে নানান ডিগ্রি নিতে চায়। বিশেষ করে আমাদের দেশে এখন মহিলাদেরকে শিক্ষিত করার জন্যে অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আপনি কি জানেন পৃথিবীতে সর্ব প্রথম স্নাতক অর্জন করা মহিলার জন্ম 1646 সালে এই ভ্যানিশ শহরেই হয়েছিল।

ভ্যানিশ বিশ্বের একমাত্র শহর যেখানে 17 নম্বরের কিছুই আপনি দেখতে পাবেন না। যেমন, সেখানের কোনো হোটেলে 17 নম্বরের রুম পাওয়া যায় না।কোনো বিল্ডিং এ 17 নম্বরের রুম পাওয়া যায় না। কেননা সেখানের লোকেরা এটা মানে যে যদি কেউ রোমান সংখ্যায় 17 লিখে তার মানে হয় যে সে তার জীবন থেকে বিদায় নিতে চায়।

Quarantine শব্দের আবিষ্কার

প্রতিটি শহর, প্রতিটি দেশের জনসংখ্যা দ্রুত গতিতে বেড়েই চলছে কিন্তু ভ্যানিশ শহরে দিন দিন জনসংখ্যা কম হচ্ছে। কেননা ভ্যানিশ শহরটি প্রতি বছর 1 – 2 মিলিলিটার মাপে ডুবে যাচ্ছে। এই ভ্যানিশ শহরে রয়েছে পৃথিবীর সবচাইতে ছুটো সড়ক, ক্যালে ভারিস্কো। এই সড়কের মাপ মাত্র 53সেমি 21ইঞ্চ।
করোনার সময় আমরা অনেক নতুন শব্দ শিখেছি, তার মধ্যে সবথেকে ফেমাস শব্দ ছিল Quarantine, যেটির আবিষ্কার হয়েছিল ভ্যানিশএ।

আশা করি পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর শহর কোনটি? এবং এই শহর সম্বন্ধে কিছু অজানা তথ্য সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এরকম আরও নতুন নতুন অজানা তথ্য সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের পোর্টালের আরও আর্টিকেল পড়ুন। (ক্লিক করুন)


WP Twitter Auto Publish Powered By : XYZScripts.com