ভারতের কোন শহরকে গুলাপি শহর বলা হয়


ভারতের ঐতিহ্যশালী  রাজ্য রাজস্থান এর  একটি শহর ‘ জয়পুরকে ‘ গোলাপি বা Pink City শহর বলা হয়। জয়পুরকে গোলাপি শহর বলার কারণ হলো সেখানের প্রধান প্রধান ভবন গুলির প্রায় সবই গোলাপি রঙের, তাই এই জয়পুর শহরকে পিংক সিটি বা গোলাপি শহর বলা হয়। জয়পুর এর প্রধান ভবনগুলি হলো, সিটিফেলেস যার একটি অংশ জয়পুরের রাজ পরিবারের বাড়ি, হওয়া মহল, রাম্বাপ্রাসাদ, নাহার রোর্ডের টার্গেট ফোর্ট এবং অন্যান্য পাবলিক ভবনের মধ্যে রয়েছে মিউজিয়াম এবং একটি লাইব্রেরী।

ভারতের কোন শহরকে গুলাপি শহর বলা হয়

১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজস্থানের বিশ্ব বিদ্যালয় এই জয়পুর শহরেই অবস্থিত। এই জয়পুর শহর ছাড়াও রাজস্থানে আরও অনেক মজাদার শহর রয়েছে যেগুলো বেশিরভাগ মানুষেরই অজানা। এখানে রাজস্থানের এই মজাদার শহরগুলোর অজানা তথ্য সম্বন্ধে এবং পর্যটন কারীদের বিভিন্ন পর্যটনস্থান, রাজস্থানের বেশ-পোশাক এবং তাদের বিখ্যাত খাবার সম্বন্ধে আজ বিস্তারিত ভাবে আলোচনা করবো।

রাজস্থানের আয়তন এবং তার গঠন

 রাজস্থান হলো উত্তর ভারতের এমন একটি রাজ্য যেটি আয়তনের ভিত্তিতে ভারতে প্রথম এবং জনসংখ্যার দিক থেকে সপ্তম স্থান অধিকার করে। এই রাজ্যটি উত্তরে পাঞ্জাব, উত্তর-পূর্বে হরিয়ানা এবং উত্তর প্রদেশ, দক্ষিণ-পূর্বে মধ্য প্রদেশ এবং দক্ষিণ পশ্চিমে গুজরাটের সঙ্গে বর্ডার শেয়ার করে।

রাজস্থানের কিছু বিখ্যাত শহর

 জয়পুর রাজস্থানের বৃহত্তম শহর এবং রাজধানি হলেও জদপুর, গোটা, বিখানের, আজমের এবং উদয়পুর হলো এই রাজ্যের গুরুত্ব পূর্ণ শহর। এই রাজ্যের শহরগুলোর সঙ্গে এক অদ্ভুত রঙের মিলও রয়েছে। যেমন, জয়পুর পিংক সিটি, যদপুর ব্লু সিটি, উদয় পুর হোয়াইট সিটি এবং ঝালোয়ার শহরটি পার্পেল সিটি নামে পরিচিত।

রাজস্থানের নামের মধ্যেই এর অর্থ লুকিয়ে রয়েছে। রাজস্থান এর অর্থ হলো রাজাদের স্থান বা রাজাদের জায়গা। তাই এখানে একাধিক রাজবাড়ী দেখতে পাওয়া যায়। এই রাজ্যে দেখতে পাওয়া যায় ভারতের বৃহত্তম ‘থর’ মরুভূমি এবং এই মরুভূমির প্রায় ৬০ শতাংশ জায়গা রাজস্থানে বিরাজমান করে।

রাজস্থানের ব্যাপারে বলতে গেলে আমরা সেখানের পুতুল নাচের কথা কখনো ভুলতে পারবো না। পুতুল নাচ এই রাজ্যের এক উল্লেখযোগ্য লোক সংস্কৃতি। পুতুল নাচ রাজস্থানের এক উল্লেখযোগ্য লোক সংস্কৃতি হওয়ায়, সেখানের অলি-গলি অর্থাৎ প্রায় সব এলাকাতেই পুতুল নাচ দেখতে পাওয়া যায়।

এই রাজ্যের পর্যটক স্থান

 রাজস্থান ঐতিহাসিক জায়গায় ভরপুর থাকার কারণে এখানে সারা বছর ধরে টুরিসদের আনা-গনা লেগেই থাকে। লাল এবং বেলে পাথর দিয়ে তৈরি সেখানকার হাওয়া মহল, শুধু এই রাজ্যেরই নয়, এটি সমগ্র ভারতের একটি গুরুত্ব পূর্ণ অংশ। আনা সাগরের পাশে অবস্থিত আজমেশ্বরী দর্গা এই রাজ্যের পর্যটন শিল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাজা মইনুদ্দিন জিস্তির এই দরবারে শুধু মুসলিমই নয় সমস্ত ধর্মের মানুষের ভিড় লেগে থাকতে দেখতে পাওয়া যায়। প্রতিদিন নামাজের পর এই দরগায় এক বড়সড় কাওয়ালির আয়োজন করা হয়। এছাড়া এখানে ঘুরতে যাওয়ার সমস্ত মানুষের জন্যে পাঁচ হাজার মানুষের খাওয়া সম্ভব হবে এরকম একটা কড়াইয়ে রান্না করা হয়।

রাজস্থানে বাইকের পূজা কেনো করা হয়

এই রাজ্যে ভুলেট বাবার সম্পর্কে একটি অদ্ভুত কাহানি শুনতে পাওয়া যায়। বলা হয় ভূলেট বাইকে যাওয়ার সময় এই রাজ্যের এক দম্পতি, বাইকটির নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে এক পথ দুর্ঘটনায় মারা যান। পরে পুলিশ সেই বাইক টিকে থানা নিয়ে যাওয়ার পর লক্ষ্য করেন যে পরের দিন এই বাইকটি সেই এক্সিডেন্ট হওয়া জায়গায় পড়ে রয়েছে। এবং এই ঘটনাটি বার বার রিপিট হতে থাকে তাই সেখানের পুলিশরা এই ভুলেট বাইকটিকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। তখন থেকেই মানুষ সুরক্ষিত যাত্রার সময় এই বাইকটির পূজা করে থাকেন।

রাজস্থানের ঐতিহ্য অনুযায়ী তাদের বেশ-পোশাক এবং তাদের খাবার

রাজস্থানের ঐতিহ্য অনুযায়ী এখানকার মেয়েরা মাথায় গোমটা দিয়ে থাকেন এবং তারা হাত ভর্তি চুরি পড়া পছন্দ করেন। অন্যদিকে সেখানকার পুরুষ তাদের গোঁফ রাখাকে তাদের পুরুষত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন। সেখানকার বান্ধবঘর ফটকে ভারতের সবচেয়ে ভুতুড়ে জায়গাগুলোর মধ্যে একটি মানা হয়। তাই সূর্য অস্ত থেকে উদয় হওয়া পর্যন্ত এই স্থানে যাওয়া নিষিদ্ধ রয়েছে। জয়সলমের থেকে আঠারো কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কুলদারা গ্রামের এক অবাক করা ঘটনা সেখানে শুনতে পাওয়া যায় , বলা এই কুলদারা গ্রামটি রাতারাতি এক ধ্বংসস্থ রূপে পরিণত হয় এবং সেখানকার বাসিন্দারা কোথায় গেছেন এখন পর্যন্ত তার খোঁজ পাওয়া যায় নি। রাজস্থানে সবচেয়ে বেশি উট দেখতে পাওয়া যায় এবং প্রতি বছর জানুয়ারি মাসে এখনো উটের একটি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া এই রাজ্যে পশুদের নিয়ে পুশখার নামে একটি মেলা দেখতে পাওয়া যায়।

রাজস্থানী খাবারের তালিকায় রয়েছে বিখ্যাত ডাল বাটি চুরমা, পঞ্চিরত্ন ডাল (একটি বিশেষ মসুর ডাল যা পাঁচটি বিভিন্ন ধরনের মসুর ডালের মিশ্রণ), পাঁপড় রো সাগ, কের সাংগ্রি, গাত্তে রো সাগ। তারপর রয়েছে বিকানেরি ভুজিয়া, মিরচি বড়া এবং কান্দা কচুরি এই সব খাবারগুলি রাজস্থানের বিখ্যাত খাবার হিসাবে পরিচিত।

এই আর্টিকেলে আপনারা জানলেন যে ভারতের কোন শহরকে গুলাপি শহর বলা হয়। এছাড়া আরও অজানা তথ্য জানতে হলে আমাদের সাইটির অন্যান্য পোস্টগুলো পড়ুন। (এখানে ক্লিক করুন)


WP Twitter Auto Publish Powered By : XYZScripts.com