এশিয়ার মধ্যে কোন শহরে প্রথম কম্পিউটার ব্যাবহার শুরু হয় ?


আজ কালের যুগে কম্পিউটার আমাদের জন্য কতটা প্রয়োজনীয়, এটা আমাদের হয়তো কারো অজানা নয়। কম্পিউটার এর উপর নির্ভর হওয়ার কয়েকটি বিশেষ কারণ রয়েছে, যেমন: কম্পিউটার কোনো কাজকে খুব দ্রুত গতিতে এবং নির্ভুল ভাবে করে।

এশিয়ার মধ্যে কোন শহরে প্রথম কম্পিউটার ব্যাবহার শুরু হয়

এখন আমরা কম্পিউটারকে বিভিন্ন কাজে ব্যাবহার করে থাকি কিন্তু কম্পিউটারের আসল কাজ হলো গগণা করা। তাই আমরা কম্পিউটারকে বাংলায় গগনা যন্ত্র বলা হয়। আজ আমরা যেভাবে কম্পিউটারকে দেখছি শুরু শুরুতে কম্পিউটার কিন্তু এরকম ছিল না। এ

শিয়া মহাদেশের চীন- এ সর্ব প্রথম কম্পিউটার এর ব্যাবহার শুরু হয়। এখানে আজ আমরা কম্পিউটার এর ইতিহাস সম্পর্কে অর্থাৎ কে সর্ব প্রথম কম্পিউটার আবিষ্কার করেন, সর্ব প্রথম কম্পিউটার এর নাম কি, এই সবকিছু বিস্তারিত বিশ্লেষণ করবো, যা আমাদের জানা থাকা আবশ্যক।

কম্পিউটার এর ইতিহাস, কোথায়, কে এবং কখন কম্পিউটার আবিষ্কার করেছিলেন?

কম্পিউটারকে বাংলায় গণনা যন্ত্র বলা হয়ে থাকে। কম্পিউটারকে মূলত গণনার কাজে ব্যাবহার করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কম্পিউটার এর আবিষ্কার আজ থেকে প্রায় চার বছর আগে হয়েছিল। বিশ্বের সর্ব প্রথম কম্পিউটার এর নাম ছিল ‘ অ্যাবাকাস ‘, এটি 1602 সালে চিনে আবিষ্কার করা হয়েছিল।

এই কম্পিউটারটি একটি কাঠের ফ্রেমের মধ্যে তার যুক্ত করে, এই তার গুলোতে ছুটো ছুটো বল দ্বারা নির্মিত করা হয়ে ছিল এই কম্পিউটার। এখন এই কম্পিউটারকে বর্তমানে ছুটো ছুটো বাচ্চাদেরকে গণনা শেখানোর জন্য ব্যাবহার করা হয়।


‘ আবাকাস ‘ তৈরির প্রায় 17 বছর পর 1617 সালে ‘ নেপিয়ার বোন্স ‘ নামের আরেকটি কম্পিউটার আবিষ্কার হয়, যেটি ‘ জন নেপিয়ার ‘ আবিষ্কার করেছিলেন। যেখানে আবাঁকাস কম্পিউটারে শুধু গণনা করা যেত, সেখানে এই কম্পিউটার এর দ্বারা গণনার সাথে সাথে যোগ – বিয়োগ ও করা যেত।


তারপর 1642 সালে ‘ পেস্কলাইন ‘ নামের আরেকটি কম্পিউটার ‘ব্লেজ প্যাসকেল ‘ আবিষ্কার করেছিলেন। এবং এই কম্পিউটারটি বিশ্বের সর্ব প্রথম ম্যাকানিকাল কম্পিউটার ছিল, যার মাধ্যমে সাধারণ যোগ – বিয়োগ এর সাথে সাথে দশমিক যুক্ত সংখ্যার ও যুগ – বিয়োগ করা যেত।


কম্পিউটার আবিষ্কার এর এই যাত্রার মধ্যে আগমন ঘটে ‘চার্লস ব্যাবেজ ‘ এর, যাকে কম্পিউটার এর পিতা বলা হয়ে থাকে। ইনি 1822 সালে ‘ ডিফারেন্স ইঞ্জিন ‘ নামের একটি কম্পিউটার আবিষ্কার করেন কিন্তু এই আবিষ্কার তার সফল হয়নি। তবুও তিনি হার না মেনে 1833 সালে ‘ ডিফারেন্স ইঞ্জিন ‘ এর অ্যাডভান্স ভারসান ‘এনালিটিকল ইঞ্জিন ‘ নামের আরেকটি কম্পিউটার আবিষ্কার করেন এবং এটিতে পুরোপুরি সফলতা অর্জন করেন।

এই কম্পিউটারের বিশেষতা এটাই ছিল যে, এটাতে কিছু ইনপুট দিলে এটা আবার আউটপুট হিসাবে ফিরে আসার জন্য এটাতে একটা কোডিং ব্যাবহার করা হয়েছিল। এবং এটাই বিশ্বের সর্ব প্রথম কোডিং কম্পিউটার বা প্রসেসিং প্রোগ্রামার এর ব্যাবহার করা হয়ে ছিল। এনালেটিং মেশিন এর এই প্রোগ্রাম ‘এডা আগস্টে ‘ নামক এক মহিলা তৈরি করেছিলেন তাই উনাকে কম্পিউটার এর মা বলা হয়ে থাকে।

প্রোগ্রামার এর জন্যই এই কম্পিউটারকে বিশ্বের সর্ব প্রথম কম্পিউটার বলা হয়ে থাকে এবং চার্লস ব্যাবেজকে কম্পিউটার এর পিতা বলা হয়ে থাকে। ‘এডা আগস্টে ‘ বিশ্বের সর্ব প্রথম মহিলা প্রোগ্রামার হিসেবে বিবেচিত হন। ‘এডা আগস্টে ‘ এর জন্যেই কম্পিউটার এ ‘অ্যাডা ‘ ভাষার ব্যবহার হয়ে থাকে।

কম্পিউটার আবিষ্কার এর সফলতা ধীরে ধীরে আরও উন্নত মানের কম্পিউটার এর আবিষ্কার একের পর একে করেই যাচ্ছিলেন। এরকমই 1890 সালে ‘বর্মন হলিরিশ ‘ ‘টেবুলেটিং মেশিন ‘ এর আবিষ্কার করেন। সেই সময়ের কম্পিউটার এর মধ্যে ‘ টেবুলেটিং ‘ সবচাইতে উন্নত মানের কম্পিউটার ছিল।

‘টেবুলেটিং মেশিন ‘ দ্বারা 1890 সালে প্রথম আমেরিকায় জনগণনা করা হয়। ‘টেবুলেটিং মেশিন ‘ বিশেষ সফলতা অর্জন করায় ‘ বর্মন হলিরিষ ‘ এ এই কম্পিউটার বানানোর জন্যে একটি কোম্পানি স্থাপন করেন, যেখানে অত্যাধিক টেবুলেটিং মেশিন এর আবিষ্কার করা হতো। এই কোম্পানির নাম 1924 সালে ‘ IBM‘ রাখা হয়। তারপর 1944 সালে হাবর্ট ইউনিভার্সিটি এবং এই.বি.এম কোম্পানি মিলে মার্ক1 কম্পিউটার এর আবিষ্কার করেন, যেটি বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রনিক ম্যাকানিলে কম্পিউটার ছিল।


1941 – 1946 সালে ENIAC ( ইলেকট্রনিক নিউমেরিকাল ইন্টিগ্রেটেড অ্যান্ড কম্পিউটার ) কম্পিউটার এর আবিষ্কার হয়। এই কম্পিউটারের বিশেষতা ছিল, এটি বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রনিক এবং প্রোগ্রামিং কম্পিউটার ছিল, ENIAC কে আধুনিক কম্পিউটার এর স্তম্ভ বলা হয়ে থাকে।

ভারতের প্রথম কম্পিউটার ব্যাবহার

কম্পিউটার এর আবিষ্কার তো অনেক আগেই হয়েগিয়েছিল কিন্তু এর ব্যাবহার বা প্রচলন খুব অল্প কয়েকজনই জানতেন বা করতেন, যে দেশগুলো টেকনোলজিতে উন্নত দেশ ছিল। কিছু কিছু দেশ তো এমনও ছিল যারা কম্পিউটার কি সেটা বুঝতও না। কিন্তু কম্পিউটার এর উন্নত ব্যাবহার দেখে ধীরে ধীরে সমস্ত বিশ্বে কম্পিউটার এর ব্যাবহার শুরু হয়।

কিন্তু কমপিউটার এর ব্যাবহার সমস্ত বিশ্বে শুরু হলেও, কম্পিউটার আবিষ্কার কয়েকটি দেশই করতো এবং সেই দেশগুলো থেকে এনে কম্পিউটার অন্যান্য দেশ গুলোতে ব্যাবহৃত হতো। তো চলুন আজ আমরা ভারতে প্রথম কম্পিউটার কে এনেছিলেন এই বিষয়ে জেনে নেই।

1952 সালে ড° দ্বিজেশ দত্ত দ্বারা ভারতের কলকাতায় ভারতীয় বিজ্ঞান সংস্থায় প্রথম কম্পিউটার আনা হয়েছিল যা একটি অ্যানালক ছিল। তারপর 1955 সালে ব্যাংলোর এ ভারতীয় বিজ্ঞান সংস্থায় কম্পিউটার আনা হয়েছিল। কিন্তু আসলে ভারতে কম্পিউটার এর ব্যাবহার শুরু হয়েছিল 1956 সালে। যেটি ভারতীয় বিজ্ঞান সংস্থায় ‘ ডিজিট্যাল কম্পিউটার HEC – 2M ‘ লাগানো হয়েছিল। এই কম্পিউটার আনার পর ভারত জাপানের পর, এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় দেশ হিসাবে পরিচিত হয়ে ছিল, যেটি কম্পিউটার টেকনোলজির ব্যাবহার করে ছিল।

তারপর 1958 সালে URL নামের আরেকটি কম্পিউটার ‘ভারতীয় স্ট্যাটিসটিকাল ইনস্টিটিউশন ‘কলকাতায় আনা হয়েছিল, যাকে রাশিয়া থেকে কেনা হয়েছিল। 1964 সালে এই দুটি কম্পিউটার এর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কারণ তখন আই.বি.এম কোম্পানি তার নতুন কম্পিউটার IBM 1401’ভারতীয় স্ট্যাটিসটিকাল ইনস্টিটিউশন ‘ কলকাতায় আনা হয়ে গিয়েছিল। এটি IBM 1400 এর প্রথম কম্পিউটার ছিল, যেটি একটি ডাটা প্রসেসিং কম্পিউটার ছিল। এটাকে IBM কোম্পানি 1959 সালে বানিয়েছিল।


এখনো পর্যন্ত যতটি কম্পিউটার এর ব্যাবহার সম্বন্ধে জানলাম এই সবগুলো অন্যান্য দেশের থেকে কেনা হয়েছিল, ভারতে তখন একটিও কম্পিউটার বানানো হয়নি। কিন্তু 1966 সালে ভারতের দুটি সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইনস্টিটিউশন ‘ এবং ‘ যাদবপুর ইউনিভার্সিটি ‘ মিলে ভারতে প্রথম কম্পিউটার বানিয়েছিলেন যেটির নাম ছিল ‘ ISIJU ‘. HEC 2M এবং ISIJU দুটির মধ্যে প্রার্থক্য এটাই ছিল যে HEC 2M ভ্যাকিউম টিউব ইলেকট্রিসিটি দ্বারা নির্মিত ছিল এবং ISIJU কম্পিউটারটি ট্রানসিস্টন ইলেকট্রিসিটি দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।

এরপর থেকে আর অন্য দেশ থেকে কম্পিউটার কেনার আর প্রয়োজন হয়নি ভারতের, তখন ভারত নিজেই কম্পিউটার আবিষ্কার করতে শুরু করে। ভারতের প্রথম সুপার কম্পিউটার ছিল ULTIMATE 8000. আর এখন তো অনেক ভালো মডেলের কম্পিউটার ভারতে বানানো হয়।

আশা করি এশিয়ার কোন শহরে প্রথম কম্পিউটার ব্যাবহার করা হয় ? এর বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছেন, তার সাথে সাথে কম্পিউটার এর ইতিহাস সম্পর্কে এবং প্রথম কে আবিষ্কার করেন তা সম্বন্ধে অনেকটা জানতে পেরেছেন, যা ছাত্র -ছাত্রীদের বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কাজে আসবে। এরকম আরও নতুন নতুন তথ্য সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের পোর্টালে নিয়মিত আর্টিকেল পড়ুন। (এখানে ক্লিক করুন)


WP Twitter Auto Publish Powered By : XYZScripts.com